একুশে পদকজয়ী কবি ও গীতিকার আজিজুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
নেই কোনো আয়োজন, অযতœ-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভ
সত্যখবর ডেস্ক ॥ একুশে পদকজয়ী বরেণ্য কবি ও গীতিকার আজিজুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১২ সেপ্টেম্বর। অথচ তাঁর মতো গুণী এই কবিকে স্মরণে কুষ্টিয়ায় নেই কোনো উল্লেখযোগ্য আয়োজন। জন্মভিটা ও সমাধিস্থলও পড়ে আছে অনেকটা অযতœ-অবহেলায়। ফলে সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছে তাঁর স্মৃতিস্তম্ভটুকুও। বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা আজিজুর রহমান ১৯১৪ সালের ১৮ অক্টোবর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুরে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ বেতারের নিজস্ব শিল্পী এবং দৈনিক পয়গামের সাহিত্য বিভাগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৭৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর লেখা দুই হাজারেরও বেশি গানের মধ্যে ‘তারা ভরা রাতে’, ‘আমি রূপনগরের রাজকন্যা’, ‘ভবের নাট্যশালায় মানুষ চেনা দায় রে’ ও ‘কারো মনে তুমি দিও না আঘাত’সহ অসংখ্য গান শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলা গানের ভাণ্ডারে তাঁর এসব সৃষ্টি আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ, জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ এই কবি-গীতিকারের মৃত্যুবার্ষিকীতেও স্থানীয়ভাবে কোনো বড় ধরনের স্মরণ অনুষ্ঠান বা সরকারি উদ্যোগ দেখা যায় না। তাঁর জন্মভিটা ও সমাধিস্থলের যথাযথ সংরক্ষণ এবং নিয়মিত স্মরণ আয়োজনেরও নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ। সাহিত্যপ্রেমীরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের কাছে আজিজুর রহমানের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান তুলে ধরতে হলে তাঁর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রতিবছর মৃত্যুবার্ষিকীতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা প্রয়োজন। লেখক ও গবেষক অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু বলেন, আজিজুর রহমানের মতো গুণী মানুষের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি। তাঁর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
মন্তব্য করুন