কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট লালন শাহের স্মরণে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী লালন মেলাকে ঘিরে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের চোরাচালান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, মেলায় বিপুল জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে অসাধু চক্র। এ পরিস্থিতিতে মেলার আগে থেকেই প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি বাড়ানো ও নিয়মিত তল্লাশি চালানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর লালন মেলা উপলক্ষে দূরদূরান্ত থেকে বাউল, সাধু-ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ছেঁউড়িয়ায় আসেন। বিপুল মানুষের ভিড়কে কাজে লাগিয়ে মাদক কারবারিরা যাতে চোরাচালান বা মাদক বিক্রির সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য আগাম নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে ভেড়ামারা, খোকসা, কুমারখালী, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কুষ্টিয়ায় প্রবেশের সড়ক ও নদীপথে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এসব পথে মাদক চোরাচালানের কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা চালানের তথ্য তাঁরা উল্লেখ করেননি।
ছেঁউড়িয়া এলাকার কয়েকজন প্রবীণ ও সচেতন বাসিন্দা বলেন, লালন শাহের মানবতাবাদী দর্শন ও অহিংস বাণীকে ঘিরে আয়োজিত এই মিলনমেলায় মাদকের বিস্তার কোনোভাবেই কাম্য নয়। মেলার পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কুষ্টিয়ায় প্রবেশের প্রধান সড়ক, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও নদীপথের খেয়াঘাটে অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি স্থাপন এবং সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তির ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, র্যাব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, মাদক চোরাচালানের সম্ভাব্য রুটে যৌথ অভিযান এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানান, মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের মাদক কারবার বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই ছাড় না পায়, সে লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক তল্লাশি কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সমন্বিত নজরদারির মাধ্যমে লালন মেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন