Sattokhobor News
প্রকাশ : Sep 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ছুটির দিনে দৌলতপুরের পদ্মায় দর্শনার্থীদের ঢল

শরতের শুরুতেই উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নতুন পানি পেয়েছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের পদ্মা নদী। শুকিয়ে যাওয়া বালুচর ছাপিয়ে এখন নদীজুড়ে থইথই পানি সেইসঙ্গে রূপালি ঢেউ। পদ্মার এই নতুন রূপে প্রাণ ফিরেছে নদীকেন্দ্রিক জনজীবনেও। ছুটির দিন গুলোতে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ফিলিপনগর আবেদের ঘাটের পদ্মা নদীর তীর যেন এক টুকরো বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে পদ্মার পাড়ে আসতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। সূর্যাস্তের সময় নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি আর লালচে আকাশের মায়াবী দৃশ্য উপভোগে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তারা।

নদীতে পানি বাড়ায় দীর্ঘদিন পর পুরোদমে শুরু হয়েছে নৌকা চলাচল।

ঘাটগুলো মুখর হয়ে উঠেছে মাঝিদের হাঁকডাকে। দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ এখন ইঞ্জিনচালিত নৌকায়  নদীর বুক চিরে ঘুরে বেড়ানো। তরুণদের কেউ কেউ দল বেঁধে নৌকায় আনন্দ-উল্লাস করছেন। আবার কেউ নদীর শান্ত ঢেউয়ের দোলায় খুঁজে নিচ্ছেন প্রশান্তি।

 

নদীপাড়ে ঘুরতে আসা শাহিন হোসেন বলেন, ‘ঘুরতে এসে নদী থেকে তোলা টাটকা মাছ দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। তাই মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছি। ’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীপাড়ের এসব অস্থায়ী মাছের হাটে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতি ও আকারের মাছ বিক্রি হচ্ছে।

দর্শনার্থীদের সমাগমকে কেন্দ্র করে নদীর বাঁধ ও তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী গ্রামীণ বাজারও। সারি সারি দোকানে বিক্রি হচ্ছে গরম জিলাপি, চটপটি, ফুচকা, পেঁয়াজু, মরিচ ও বেগুন ভর্তা দিয়ে হাতের রুটি এবং হালিম।

শিশুদের আকৃষ্ট করতে রয়েছে  খেলনা, বেলুন ও বাঁশির দোকান। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দোকানগুলোর আলো আর মানুষের কোলাহলে নদীপাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

 

পদ্মাপাড়ে ঘুরতে আসা জাহিদ হোসেন স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির বিকেলে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দুজনই সরকারি চাকরি করি। কর্মব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য তেমন সময় পাওয়া যায় না। সাপ্তাহিক ছুটিতে তাই একটু সময় বের করে নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার পরিবেশ খুব ভালো লাগছে। ’

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি কমে গেলে নদীতীরবর্তী এলাকা অনেকটাই নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। তবে নতুন পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পুরো পরিবেশ। নদীর পাড়ে বাড়ে মানুষের আনাগোনা, জমে ওঠে নৌকা চলাচল, মাছ ধরা ও কেনাবেচা। এতে মাঝি, জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগারেও স্বস্তি ফিরে আসে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় বিলাসবহুল এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুলের আবাসিকে শিক্ষার

1

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

2

মসজিদের মতো মন্দিরের উন্নয়নও করি: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অমি

3

এআইইউবিতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

4

ডিজেল বিক্রিতে এখনও ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে: রিজভী

5

সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম ৫ দিনের রিমান্ডে

6

বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান হলেন সামিনা

7

জবরদখল ও অনিয়মে বিপর্যস্ত রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, ব

8

দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি ধীরগতিতে বৃদ্ধি, ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে ১

9

কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ টাপেন্

10

কচুরিপানার নিচে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না ৭ ডাকাতের

11

সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে লালন স্মরণোৎসব, ছেঁউড়িয়ায় বাড়ছে ভক্তদ

12

গুগলে শিক্ষানবিশীর সুযোগ

13

একুশে পদকজয়ী কবি ও গীতিকার আজিজুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

14

তৈরি পোশাকশিল্পে বিপদ সংকেত

15

কারা পেলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

16

প্রথম রোজায় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ

17

পদ্মায় নিখোঁজের ৩৫ ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার

18

গিটারকে যাত্রী ভেবে হেলমেটের মামলা দিল ‘এআই ক্যামেরা’

19

রামেকে ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্

20