কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার কমেছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।
উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানি থাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমিতে পানি থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে ১৩ দশমিক ২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমার প্রবণতা শুরু হলেও দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকা চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।
পানির কারণে অনেক এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি এখনো তলিয়ে আছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বিশেষ করে রান্নাবান্না, চলাচল ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ করতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পানিবন্দী পরিবারগুলো।
এদিকে দুর্গত মানুষের সহায়তায় দৌলতপুরের চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চাল ও শুকনা খাবারের ৭৫০ প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার এসব ত্রাণ বিতরণ করেন দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ এবং উপজেলা ও স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই দফায় আরও ৫৫০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী থাকলেও বিতরণ করা ত্রাণের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অল্প পরিমাণ ত্রাণ দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক দুর্গত মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। অনেক পরিবার এখনো পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা পায়নি বলেও অভিযোগ তাদের।
চিলমারী ইউনিয়নের পানিবন্দী মোক্তার হোসেন বলেন, ‘পানি একটু কমেছে, কিন্তু আমাদের দুর্ভোগ এখনো কমেনি।
ঘরবাড়িতে পানি থাকায় স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্না ও চলাফেরা করতে পারছি না। এত মানুষ পানিবন্দী, অথচ ত্রাণ এসেছে খুবই অল্প। আরও বেশি মানুষের মধ্যে চাল, শুকনা খাবার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া দরকার। ’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘গত রবিবার ২৪০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যেসব এলাকায় মানুষের প্রয়োজন বেশি, সেসব এলাকায় পর্যায়ক্রমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ’
সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে দৌলতপুরের বিপুলসংখ্যক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সোমবার চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চাল ও শুকনা খাবারের ৭৫০ প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় এ সহায়তা যথেষ্ট নয়। আরও বেশি মানুষের কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। ’
মন্তব্য করুন