কুষ্টিয়ার হরিনারায়ণপুরের শিবপুরে দিনব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে সাড়ে ১৫শ রোগীকে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এ সময় রোগীদের চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছানি, নেত্রনালির সমস্যা ও চোখে মাংস বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুরের দোয়ারকা দাস আগরওয়ালা মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে এ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
দোয়ারকা দাস ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাম্পে সহযোগিতা করে বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশন ও গীতাঞ্জলি জুয়েলার্স।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই চোখের চিকিৎসা নিতে ক্যাম্পে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। কেউ এসেছেন দীর্ঘদিনের চোখের সমস্যা নিয়ে, আবার কেউ চোখে ঝাপসা দেখা, ব্যথা কিংবা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক রোগী জানান, অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা চোখের চিকিৎসা করাতে পারেননি।
দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে চারজন চক্ষু চিকিৎসকসহ ১২ সদস্যের একটি মেডিকেল দল রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা দেওয়া হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেকে জানান, স্থানীয় পর্যায়ে বিনামূল্যে এমন সেবা পাওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসংকট কিছুটা দূর হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তাঁরা।
চিকিৎসকরা জানান, চোখের অনেক রোগ শুরুতে সাধারণ মনে হলেও সময়মতো চিকিৎসা না করালে তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে ছানি, নেত্রনালির সমস্যা ও চোখে মাংস বৃদ্ধির মতো সমস্যায় অনেক রোগীর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। তবে আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না।
ক্যাম্পে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। ছানি, নেত্রনালির সমস্যা ও চোখে মাংস বৃদ্ধির কারণে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত রোগীদের ঢাকায় নিয়ে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা বলেন, প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে উন্নত চক্ষু চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই এ ধরনের ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য। শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়াই নয়, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে এমন রোগীদের শনাক্ত করে পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
চক্ষু ক্যাম্পের ব্যবস্থাপক আবু তৈয়ব বলেন, ক্যাম্পে আসা রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যাঁদের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, তাঁদের তালিকাভুক্ত করে ঢাকায় নিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
মন্তব্য করুন