Sattokhobor News
প্রকাশ : Sep 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহে টিকা নেওয়ার আগেই হামে আক্রান্ত, দু’মাসে মৃত্যু ৩৩ শিশুর

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুদের প্রায় ৭৭ শতাংশই ছিল এমন বয়সের যাদের এখনো হামের টিকা নেওয়ারই সময় হয়নি।

১৭ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জন শিশুর বয়স ছিল জন্ম থেকে ৯ মাসের মধ্যে। মৃত ২৪ শিশুর মধ্যে ১৮ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়ে।

এদিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, ৯ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার পর শিশুদের হামের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়। ফলে এসব শিশু টিকা নেওয়ার আগেই সংক্রমণের শিকার হয়েছে।

এছাড়া ১০ থেকে ১৫ মাস বয়সি ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবাই ছেলে। ১৫ মাসের বেশি বয়সি আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একজন ছেলে ও একজন মেয়ে। অপর এক শিশুর বয়সের তথ্য পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬ জন ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা। এছাড়া নেত্রকোনার ৫ জন, জামালপুরের ৪ জন, কিশোরগঞ্জের ৩ জন, শেরপুরের ২ জন এবং টাঙ্গাইলের ১ জন শিশু রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা দেওয়ার আগেই শিশুদের আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতিতে গর্ভবতী মায়েদের টিকাদান, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণেও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে বলে মত তাদের।

চিকিৎসকদের দাবি, হাসপাতালে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা না থাকা এবং শয্যা সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডা. মো. গোলাম মাওলা বলেন, এই সময়ে আইসিইউ খুব জরুরি ছিল। সেটি থাকলে হয়ত এত শিশুর মৃত্যু হতো না। তবে শিশুদের আইসিইউ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাজহারুল আমীন বলেন, মৃত শিশুরা মূলত আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন এমন অবস্থায় ছিল। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা দ্রুত জটিল হয়ে পড়ছে। আইসিইউ স্থাপনের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকট নিরসনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম ইউনিটে বর্তমানে শয্যা রয়েছে মাত্র ৬৪টি। অথচ সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৪ জন শিশু। ফলে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তীব্র শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের এমন পরিবেশে রাখা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মত চিকিৎসকদের।

গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৭২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ২১৭ জন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৬ থেকে ৩২ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আস্থা ভোটে টিকে গেল ট্রুডোর সরকার

1

লালন মেলাকে ঘিরে গাঁজা চোরাচালানের শঙ্কা

2

হাসপাতালের কোয়ার্টারে মুরগির খামার, দুর্গন্ধে নাকাল রোগী-পথচ

3

কুমারখালীতে শ্রমিক দল নেতার এক্সক্যাভেটরে আগুন, বালু ব্যবসায়

4

কুষ্টিয়ায় ১৪ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক ও মালামাল উদ্ধার

5

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

6

বিলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উপভোগ করল হাজারও মানুষ

7

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

8

বাড়ল রুপার দাম, ভরিতে কত?

9

কুষ্টিয়া সীমান্তে ৪ ভারতীয় নাগরিককে পুশইন চেষ্টা বিজিবির বাধ

10

সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতিপত্র নবায়নে রাজস্বের চেয়ে ৪০ গুণ ঘু

11

রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ না হলে কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, প্র

12

কুষ্টিয়ায় কলেজ শিক্ষককে হাতুড়ি-রড দিয়ে পিটিয়ে জখম

13

কুষ্টিয়ায় ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগে দুই যুবককে গণধোলাই, পুলিশে স

14

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

15

কুষ্টিয়ায় কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের সমাপনী ও পুর

16

কুষ্টিয়ায় বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের বিক্ষোভ

17

তৃণমূল ছেড়ে এবার বিজেপির প্রার্থী হলেন কোয়েল মল্লিক

18

গড়াই নদীতে গোসলে নেমে দুই শিশু নিখোঁজ, ১৯ ঘণ্টা পর একজনের মর

19

সুপ্রিম কোর্টে সেবা পেতে অসুবিধা হলে সরাসরি ফোন করা যাবে

20