• 04:32:55 PM | Tuesday, May 5, 2026
Bongosoft Ltd.

ভ্যান চালিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন ১০ বছরের জুনায়েদ


FavIcon
Daily Satto Khobor
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 3, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: দাদা ও দাদির মাঝে শিশু জোনায়েদ
ছবি: দাদা ও দাদির মাঝে শিশু জোনায়েদ
Share:

জুনায়েদের বাবা হাবিবুর রহমান গত মার্চ মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য কিছু টাকাও জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই জমানো টাকা নিয়ে তিন শিশু সন্তানকে ফেলে, এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যান মা রোজিনা খাতুন। 

স্ত্রীর এই বিশ্বাসঘাতকতা আর বিনাচিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে অবশেষে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন না ফেরার দেশে চলে যান হাবিবুর।

হাবিবুরের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়া সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে মাত্র ১০ বছর বয়সি তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়েদের কাঁধে। পরিবারে রয়েছে অসুস্থ দাদা-দাদি, ১২ বছর বয়সি বড় ভাই এবং ছোট এক বোন। তাদের মধ্যে বড় ভাই শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। 

ছোট্ট এই শিশু এখন বাবার রেখে যাওয়া ভ্যান চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছেন।

রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সারা দিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে পরিবারের খাবার এবং অসুস্থ দাদা-দাদির খরচ। ফলে স্কুলের পড়াশোনা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে তার। স্থানীয় ১ নম্বর প্রাগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র জুনায়েদের নতুন বইগুলো এখনো প্রায় অছোঁয়াই রয়ে গেছে। 

এমনই ঘটনার সাক্ষী হয়েছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের গড়ুরার মিস্ত্রিপাড়া। 

জুনায়েদ বলেন, ‘বাবার ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোমতে আমাদের খাবার আর দাদা-দাদির খরচ চালাচ্ছি। আমার মা স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে চলে যাওয়ার পর বাবা মারা গেলেন, এখন আমাদের দেখার কেউ নেই। ’

জুনায়েদের ভ্যানের যাত্রী হয়েছিলেন স্থানীয় কলেজশিক্ষক সামসুল হক। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘সবাই বড়দের ভ্যানে ওঠে, এই ছোট বাচ্চাটার ভ্যানে কেউ উঠতে চায় না। ওর কষ্ট দেখে আজ আমি ওর ভ্যানে উঠেছি। 

এতটুকু বয়সে ও যে দায়িত্ব পালন করছে, তা ভাবলে অবাক হতে হয়। ’

জুনায়েদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘জুনায়েদের বাবার মৃত্যু ও মায়ের চলে যাওয়ার পর থেকে সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে না। তবে আমরা ছেলেটির খোঁজখবর রাখছি। তাকে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। ’

জুনায়েদের ৬৫ বছর বয়সি দাদি সপা জান নেছা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘ঈদের দিন সবাই যখন নতুন জামা পরে ঘুরছে, আমার জুনায়েদ তখন বাবার লাশ কাঁধে নিয়েছে। ওর মা শুধু আমার ছেলের চিকিৎসার টাকা নেয়নি, আমাদের পুরো পরিবারটাকে পথে বসিয়ে দিয়ে গেছে। ছোট তিনটি বাচ্চা রেখে কীভাবে চলে যেতে পারে। ’

এ বিষয়ে আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাকির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে জানতেন না। তবে দ্রুত খোঁজ নিয়ে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।