
কুষ্টিয়ায় ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের বিরুদ্ধে কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম আরিফ ও সদর উপজেলার দুর্বাচারা গ্রামের রাহান আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ নামে দুই যুবককে অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের এমএ রাজ্জাক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ তোলেন, গ্রেফতার হওয়া আরিফুল ইসলাম আরিফের ভাগ্নি মিথিলা খাতুন।
মিথিলার দাবি, ডিবি পুলিশের এসআই রকিব উদ্দিন জনি দুর্বাচারা বাজারে শত শত মানুষের সামনে থেকে আব্দুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়। একই কায়দায় আরিফকেও আটক করে তারা। আটকের সময় তাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। বাজারে উপস্থিত জনসাধারণের সামনে পুলিশ কোনো অস্ত্র দেখাতে পারেনি। এর ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত আছে বলে জানান মিথিলা।
সংবাদ সম্মেলনে মিথিলা অভিযোগ করে বলেন, দুর্বাচারা গ্রামের শীর্ষ চরমপন্থি জাহাঙ্গীর কবির লিটন এবং দরবেশপুর গ্রামের টাইগার মামুনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা চলছে। এই লিটন ও টাইগার মামুনের ইন্ধনেই ডিবি পুলিশ, আরিফ ও আব্দুল্লাহকে বাজার থেকে তুলে নেওয়ার পর তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লিটন ও টাইগার মামুন বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও র্যাবের সাবেক প্রধানের সঙ্গে সক্ষতার দাপট দেখিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। তারা মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতো এবং টাকা না দিলে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দিত। বর্তমানেও এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জামিনে আত্মগোপনে থেকে প্রশাসনকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে এবং বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, আটক বা গ্রেফতারের পর পরিবারের পক্ষ থেকে যে কোনো দাবি উঠতেই পারে। তিনি দাবি করেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করেই ওই দুই যুবককে অস্ত্রগুলিসহ গোয়েন্দা পুলিশের একটি অভিযানিক দল গ্রেফতার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রেফতারের সময় তাদের কাছে কোনো অস্ত্র ও গুলি ছিল না বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ’র স্ত্রীসহ দুই পরিবারের সদস্যসহ এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।