
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহকারী রেজাউল ইসলাম। নোটিশ জারির জন্য ১০০ টাকা ঘুস নিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারেননি। সেবাপ্রার্থীর কাছে আরও টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ফাইল খালে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেন।
ঘুস লেনদেনের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার আগেই ওই অফিস সহকারীকে অন্য একটি অফিসে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অফিস সহকারী রেজাউল ইসলামের হাতে ১০০ টাকার একটি নোট। এসময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘একটা নোটিশ জারি করতে ১৪০ টাকা খরচ হয়। আপনারা কি নোটিশের জন্য টাকা জমা দেন? আচ্ছা, ঠিক আছে। পরবর্তীতে আপনার নোটিশ এলে ওই ক্যানালে ফেলে দিয়ে আসবেন। তারপরে গিয়ে বলেন, আমার নোটিশ পাইনি।’
ভিডিওতে আরও শোনা যায়, অফিস সহকারী রেজাউল ইসলাম বলছেন, ‘একটা নোটিশ জারি করতে ৪০-৪০, ৮০ টাকা। আবার এখন গদ লিখে ফেরত দিতে হবে ৪০ টাকা। ১২০ টাকা তো খরচই হয়। আর আপনি দিচ্ছেন ১০০ টাকা, আবার আজেবাজে কথা বলছেন যে, এটা বাবদে আপনারা খরচ পান। কিডা আমাদের খরচ দেয়?’
এসময় ওই সেবাগ্রহীতা তাকে বলেন, ‘আমাদের কি এই টাকা দেওয়ার নিয়ম নাকি?’ জবাবে রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘ওইটা এসিল্যান্ডে গিয়ে বলেন। নোটিশ জারির জন্য গাড়ি ভাড়া চাই।’
স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত নামজারি, জমাভাগ, খাজনা কিংবা নোটিশ জারির মতো যেকোনো সাধারণ কাজের জন্য অফিসে এলে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন রেজাউল। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রেখে ভোগান্তিতে ফেলেন।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত অফিস সহকারী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে। শাস্তি হিসেবে বদলি করেছেন স্যারেরা। আমি আর এমন করব না।’
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, ‘বিষয়টি নজরে আসার পর ওই অফিস সহকারীকে বদলি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সিনিয়র স্যারেরা সিদ্ধান্ত নেবেন।’