
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে মাত্র এক সেন্টিমিটার।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগ জানায়, রবিবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০৬ সেন্টিমিটার। সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।
অর্থাৎ বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। শনিবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। সে হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে মাত্র এক সেন্টিমিটার।
পাউবোর হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পদ্মায় দ্রুত পানি বেড়েছে।
তবে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধির হার কমে এক সেন্টিমিটারে নেমেছে। এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ’
তিনি জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নতুন করে পানি বাড়েনি।
এদিকে, বন্যায় উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ৩৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ায় জরুরি ভিত্তিতে ১৮ টন চাল ও শুকনা খাবারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
১০ কেজি করে ১৮ টন চাল পাবেন ১ হাজার ৮০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
এছাড়াও ২ লাখ টাকার শুকনা খাবার দেওয়া হবে আরও ২৫০টি পরিবারকে। আগামীকাল সোমবার ও পরের দিন মঙ্গলবারের মধ্যে এসব সহায়তা বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
সরকারি হিসাবে, দুর্গত এলাকায় প্রায় ৮ হাজার পরিবারের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, দুই ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
এদিকে পানি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও বন্যাদুর্গত এলাকায় কৃষির ক্ষতি বাড়ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নে ইতিমধ্যে ৪৭০ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মরিচ ও কলাচাষিরা। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
পানি ওঠায় চরাঞ্চলের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় জানিয়েছে।
দুর্গত এলাকায় পানি ওঠায় রান্নার স্থান ও নলকূপ তলিয়ে গেছে। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।
এ বিষয়ে চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, ‘ নতুন করে পানি তেমন বাড়েনি। তবে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। আগামীকাল সোমবার থেকে আমার ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। ’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তুলনায় আমাদের কাছে বরাদ্দ কম এসেছে। এ কারণে জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন। দ্রুতই নতুন বরাদ্দ আসবে বলে আমরা আশা করছি। বর্তমানে যে সহায়তা পেয়েছি, তা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বিতরণ শেষ করা হবে। ’
শুভাগত বিশ্বাস আরও বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, নতুন করে অতিরিক্ত পানি বাড়ার আশঙ্কা কম। এক-দুই দিন পানি স্থিতিশীল থাকার পর কমতে শুরু করতে পারে। ’
বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।
তিনি বলেন, ‘সোমবার থেকে আমরা বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে সহায়তা কার্যক্রম শুরু করব। প্রথম দিন চিলমারী ইউনিয়নে এবং মঙ্গলবার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। ’