
জেলার বেশ কয়েকটি পরিচিত ও স্বনামধন্য হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারও এখনো তাদের লাইসেন্স নবায়ন করেনি। জেলার চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দাবি করা কিছু প্রতিষ্ঠান যেমন, সনো হাসপাতাল, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ট্রমা সেন্টার, একতা, আমিনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও লাইসেন্স নবায়ন না করার তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা প্রদানের অঙ্গীকার তুলে ধরে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আইন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর তা নবায়ন করা বাধ্যতামূলক।
লাইসেন্স নবায়নের জন্য সাধারণত অনলাইনে আবেদন করতে হয় এবং ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্স বা ভ্যাট সনদ, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশগত অনুমোদন, নারকোটিকস সংক্রান্ত ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই শেষে লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া হয়। এদিকে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বাইরেও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোরই নেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন, প্রশিক্ষিত জনবল কিংবা মানসম্মত চিকিৎসা সরঞ্জাম। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা অনিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও অভিযান না থাকায় অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
কুষ্টিয়া শহরে এসে সেবা গ্রহণকারী রাশেদা খাতুন বলেন, “ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করতে গেলে আমরা ধরে নিই সবকিছু নিয়ম মেনেই চলছে। কিন্তু যদি লাইসেন্স নবায়ন না থাকে বা সঠিক নিয়ম মানা না হয়, তাহলে রিপোর্ট কতটা নির্ভরযোগ্য হবে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়মিত তদারকি করা খুবই দরকার।” কুষ্টিয়া সদরের বাসিন্দা ও এক রোগীর স্বজন মো. আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাই বিশ্বাস করে। কিন্তু যদি শুনি বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সই নবায়ন করা নেই, তাহলে তো ভয় লাগে। রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।”
এ বিষয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেডের ইনচার্জ শামসুজ্জোহা খান জন লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিয়ে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছি।
অন্যদিকে কুষ্টিয়া সনো হাসপাতাল লিমিটেডের ম্যানেজার মির্জা শাহ্ আলম বলেন, “লাইসেন্স নবায়নের জন্য যেসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন, আমরা সবগুলোই যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছি। নির্ধারিত কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ফি প্রদান করে আবেদনও করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নবায়নকৃত লাইসেন্সটি প্রদান করা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।